ক বি-অ নু বা দ ক ম জি দ মা হ মু দ
মজিদ মাহমুদ
জন্ম:-১৬ এপ্রিল, ১৯৬৬,
পাবনায়। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে। লেখালেখির হাতে খড়ি শিশুবেলা থেকে। কবিতা তাঁর নিজস্ব জগৎ হলেও গবেষণার কাজেও তিনি দক্ষ। নজরুল ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীনে কাজ করেছেন। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০-র ও বেশি।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:- বল উপাখ্যান,আপেল কাহিনী, ধাত্রী ক্লিনিকের জন্ম,মাহফুজামঙ্গল,কাব্য সঞ্চয়ন প্রভৃতি।
প্রবন্ধগ্রন্থ:- ভাষার আধিপত্য ও বিবিধ প্রবন্ধ,কেন কবি কেন কবি নয়, নজরুল তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র, রবীন্দ্রনাথ ও ভারতবর্ষ প্রভৃতি।
হিন্দি ভাষার বিশিষ্ট কবি রঞ্জনা মিশ্রের কবিতার অনুবাদে কবি-অনুবাদক মজিদ মাহমুদ
রঞ্জনা মিশ্র, খ্যাতিমান কবি প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক। আশির দশক থেকে হিন্দি ও ইংরেজিতে লেখালেখি করে আসছেন। জন্ম- জামশেদপুর, ঝাড়খণ্ড। মহারাষ্ট্র, পুনে অল ইন্ডিয়া রেডিও (আকাশবাণী)-তে কাজ করেন। হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই ‘পাথর সময় সিধিয়ান’। ভারতীয় সঙ্গীত চারুকলা ও চলচ্চিত্র সমালোচনা সাহিত্যেও তার সুনাম আছে। হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত সাময়িকী ও ম্যাগাজিনে তার লেখা প্রকাশিত হয়ে থাকে। কবিতা ছাড়াও ভ্রমণ সাহিত্য ও বিভিন্ন ভাষার কবিদের কবিতা নিয়মিত অনুবাদ করে থাকেন। সাহিত্যকর্মের জন্য প্রতিকৃত কবিতা সম্মানসহ পেয়েছেন বেশ কিছু সম্মানজনক পুরস্কার।
দুঃখ ভোলার গান
সেভাবে দুঃগুলো ভুলতে চাই
যেভাবে মা ভুলে যান-
ধোপাখানায় দেয়া কাপড়ের হিসাব
যেভাবে বাবা ভুলে যান
তাকে রাখা বইগুলোর কথা
আমি যেভাবে ভুলে যাই গানের সুর
হকার ভুলে যায় ঠিকমতো পত্রিকা বিলাতে
যদিও আমরা তার ভুলগুলো লিখে রাখি-
ক্যালেন্ডারের পাতায়
মাস শেষে যাতে ধরা যায় তাকে
তবু কি দুঃখ ভোলা যায়!
পাখি কি ভুলতে পারে ডিমের ব্যথা
কিংবা সকালের উড্ডয়ন
আমরা যেমন ভুলি না সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার কথা
ভুলি না প্রথম ভালোবাসার স্মৃতি
হৃদয়ের গভীর কন্দরে থাকে লুকিয়ে-
সুযোগ পেলেই বেরিয়ে আসে নিঃশব্দে
নকি এটাই ঠিক যে-
আমরা চাই না দুঃখ ভুলতে
অথবা দুঃখগুলো মনে রাখি সযত্নে
যেভাবে ধমনি মনে রাখে রক্তের গতি
সাড়া-শব্দহীন বইতে থাকে অলিন্দে
আমরাও বাঁচতে শিখি দুঃখকে সাথে নিয়েই
ঠিক যেভাবে
একটা শিশু শিখে নেয়
নবজাতকের সঙ্গে বসবাস
ভাগাভাগি করে তার খেলনা আসবাব।
প্রেমের গল্প
আমার পছন্দ প্রেমের গল্প
সেই সব নায়ক-নায়িকার সঙ্গে করি বাস
আর প্রেমের চলচ্চিত্র দেখে
কতবার কেঁদেছি
মাঝে মাঝে আনন্দে বেদনায় হয়েছি নির্বাক
প্রিয় ছবিগুলো বারংবার দেখেও মেটে না সাধ
প্রতিবারই আবিষ্কার করি নতুন অর্থ
আর এ জন্য বন্ধুরা আমায় নিয়ে করে হাসাহাসি
বাড়ির শিশুরাও পায় মজা
আমার বিশ্বস ভালোবাসার হাত
পৃথিবীর শেষ গন্তব্য
কিন্তু আজকাল আমার বিশ্বাসে ধরেছে চির
দুর্বল হয়েছে হাঁটু
এখন পরস্পর চোখের দিকে তাকাতে পারি না
প্রকৃতপক্ষে-
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মনে হয়
চিরন্তন প্রেমের গল্পে আজ বিশ্বাস রাখা দায়
বিশেষ করে যখন খবরের কাগজে রাখি চোখ।
ইতিহাস, সংশয় ও পিঁপড়া
আমি জানি-
কিছুই পরিবর্তন হবে না
ইতিহাস তাই বলে- খালি কথায় চিড়ে ভেজে না
শব্দের নিরন্তন চিৎকারে
আমার কথাগুলো হারিয়ে যায়
অনাগত শিশুর অহেতুক কান্নার মতো
যেন উদ্দেশ্যহীন শব্দের প্রক্ষেপণ
ভবিষ্যতে কোনো বইয়ে থাকবে না লেখা
এ সব কথার মূল্য
বরং
আমি পিঁপড়াদের করি প্রশংসা
যারা সময় ও সংশয়ের উর্দ্ধে
ধরে আছে বিশ্বাসের হাত
নীরবে
হেঁটে যাচ্ছে সারিবদ্ধ ভাবে।


Comments
Post a Comment