ক বি নৃ পে ন চ ক্র ব র্তী
নৃপেন চক্রবর্তী
প্রধানত কবিতা গল্প ও প্রবন্ধ লেখালেখি। সত্তরের দশকের শুরু থেকেই লেখালেখি শুরু। যুগান্তর পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশ।(ছোটদের পাততাড়ি বিভাগে।) এরপর অমৃত, দেশ, বসুমতী, সত্যযুগ ইত্তেফাক সহ দুই বাংলার প্রায় সমস্ত দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনের নিয়মিত লেখক। পেশায়: শিক্ষক।সম্পাদিত পত্রিকা:-শব্দ শাব্দিক.(১৯৭১) বুধাদিত্য।ক্রমিক(মিনি পত্রিকা, ১৯৭১সালে)
প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ:-স্বপ্নের আশ্রয়ে ১৯৮৪ ,নবার্ক প্রকাশনী,লাল ক্যাকটাস. ১৯৮৭.নবার্ক প্রকাশনী,নীল শালুকের পাতায়২০০১.শব্দ শাব্দিক,হয় মৃত্যু হে উত্তরণ২০০৫. ক্রমিক প্রকাশনী,ফ্যান্তা ফ্যাচাং. ছড়া. ২০০৬ রূদ্রাক্ষ,করতলে ছুঁয়ে আছি.২০১০সাংস্কৃতিক খবর,শব্দ হীন কথোপকথন ২০১৫ কোরক,মেটারনিটি লিভ ও ঈশ্বর চন্দ্রের বর্ণ পরিচয়.. ২০১৮ শিলীন্ধ্র, হরিচরণ.সম্পাদনা.২০১৬ কোরক ২০১৭, জসীমউদ্ দীন. সম্পাদনা ২০১৮কোরক,ব্যালকনিতে বৃশ্চিক বিষাদ ২০২১,একুশ শতক,শ্রেষ্ঠ কবিতা.২০২২. একুশ শতক।
দুটি কবিতায়
কবি নৃপেন চক্রবর্তী
ভিতরে ভিতরে জলপ্রপাতের শব্দ
মাঝে মাঝে পরিচিত উদ্যান ছেড়ে
নতুনেই চলে যাওয়া ভালো।
চেনা গন্ধ চেনা হয়ে গেলে
অতঃপর ওষ্ঠ জুড়ে বিস্বাদ! বিস্বাদ!
সবুজ পাতায় প্রভাতের শিশিরের জল,
টলটল!
করতলে তুলে নিই তাকে।
নতুন জলের স্পর্শে তৃষিত শরীর জুড়ে বেজে ওঠে প্রকম্পিত সেতারের তান,
রাগিণীর নিবিড় আলাপ!
এ সময়ে শুধুই কি উচ্চারণ হীন বসে থাকা যায়?
ভিতরে ভিতরে জলপ্রপাতের শব্দে
নেচে ওঠে নদী, নদীর শরীর!
এমন সময়ে দূরে কেন?
কেন দূরে প্রিয়?
এসো, খুলে দাও আবৃত বসন।
আমাকে প্রকৃতি করো,
প্রিয় চোখে দেখে নাও আকাঙ্খিত পরম সুন্দর!
ধর্মের ষাঁড় ছুটে বেড়াচ্ছে
পৃথিবী জুড়ে একটা ধর্মের ষাঁড় ছুটে বেড়াচ্ছে.....
ওর গায়ে লাল নীল সবুজ ও কালচে মাখানো অনেক রঙ!
ও জানে কোথায় ঠিক কতটুকু রঙ লাগিয়ে দিলেই
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আগুনটা ম্যাজিকের মতন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে!
ও জানে কেমন করে মানুষের গলায় বলদের পাগলা ঘন্টি বাজিয়ে দৌড় করাতে হয় মানুষগুলোকে।
কিংবা উদোর পিণ্ডি কৌশলে কেমন করে চাপিয়ে দিতে হয় বুদোদের ঘাড়ে!
আমরা বুদোরা সেই হাজার হাজার বছর ধরে
সবকিছু জেনে বুঝেও ওই ষাঁড় টার গায়ের রঙ লাগিয়ে
ছাড়খাড় হয়ে যাবো জেনেও
দিব্যি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ,সারা শরীরে সেই রঙটাই লাগিয়ে চলেছি।
ষাঁড় টার নিজের দুধ দেবার ক্ষমতা না থাকলেও
সে জানে নিখুঁত মেশিন চালিয় কী ভাবে দুধ তৈরী করে নিতে হয়!
সারা পৃথিবী জুড়ে এখন ওই ষাঁড় টাই ছুটে বেড়াচ্ছে হৈ হৈ করে...
আর আমরা বুদোরা , উদোর পিণ্ডি সারা গায়ে মেখে
অলীক রঙ লাগিয়ে একে অন্যের ঘর- দোর পুড়িয়ে
ধর্মের ষাঁড় সেজে রক্তাক্ত হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছি
ছুটে বেড়াচ্ছি
এবং ছুটেই বেড়াচ্ছি......!


Comments
Post a Comment