ক বি -অ নু বা দ ক তূ য়া নূ র
তূয়া নূর
জন্ম:- যশোর শহরের পুরাতন কসবায়।বাবা এ কে নূর মোহাম্মদ। মা জামিলা নূর। পড়াশুনা ও বেড়ে ওঠা এই যশোর শহরে। উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার জন্য আসি ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসীতে পড়াশুনা শেষ করে পাড়ি দিই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে উচ্চ শিক্ষার জন্য। লেখালেখি ছোটবেলা থেকেই।ছড়া, কবিতা, অনুবাদ ও গল্প লিখতে ভাল লাগে।
ব্রিটিশ কবি টেড হিউজের কবিতার অনুবাদে কবি-অনুবাদক তূয়া নূর
টেড হিউজ (জন্ম ১৭ আগস্ট, ১৯৩০, ইয়র্কশায়ার, —মৃত্যু ২৮ অক্টোবর, ১৯৯৮, লন্ডন) একজন ব্রিটিশ কবি, অনুবাদক ও শিশু সাহিত্যিক। বিশ শতকের কবিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কবি টেড হিউজ ইংরেজি সাহিত্য পড়াশুনা শুরু করেন ক্যামব্রিজে। পরে বিষয় পরিবর্তন করে প্রত্নতত্ত্ব ও নৃতত্ত্ব বিভাগে চলে আসেন। মার্কিন কবি সিলভিয়া প্লাথ ক্যামব্রিজে আসেন অলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে। কবি টেড হিউজের সাথে তার পরিচয় ও বিয়ে হয় ১৯৫৬ সালে। সিলভিয়ার অনুপ্রেরণায় টেড হিউজ একটা প্রতিযোগিতায় কবিতার পাণ্ডুলিপি জমা দেন এবং তার পাণ্ডুলিপি প্রথম হয়। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয় দি হাওক ইন দ্যা রেইন। এই দম্পতি ১৯৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। টেড অধ্যাপনা শুরু করেন ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ে। টেডের অন্য মেয়ের প্রতি অনুরক্তি সংসারে ফাটল ধরায়। প্লাথ টেডকে ছেড়ে সন্তানকে নিয়ে চলে আসেন ইংল্যান্ডে। পরের বছর এই বিষাদগ্রস্ত অভিমানী কবি আত্মহত্যা করেন। টেড বিয়ে করেন আসিয়া গুটম্যান ওয়েভিলকে। আসিয়া ১৯৭৯ সালে কন্যা সুরাকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন। এরপর তিনি বিয়ে করেন ক্যারল অরচার্ডকে। ষাটের দশকের রাহু থেকে বের হয়ে এসে নতুন করে কবিতা, নন-ফিকশন ও শিশু সাহিত্য সৃষ্টিতে মগ্ন হন।
তাঁর উডও (১৯৬৭), ক্রো (১৯৭০), উলফওয়াচিং (১৯৮৯) এর মতো কবিতার সংকলন পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রকাশিত হয় তার কয়েকটা নির্বাচিত কবিতা সংকলন। ছোটদের জন্য তিনি লিখেছেন দি আয়রন ম্যান। ১৯৮৪ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের পোয়েট লোরেট হিসাবে সম্মানিত হন। তিনি অনেক ইউরোপীয় সম্মান ও খেতাব লাভ করেন।
কবি এবং সমালোচক রবার্ট শ বলেন, হিউজ কবিতার সেই সময়ের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে একটা নাটকীয় পরিবর্তন ঘটান। টেড শেক্সপিয়ারের মতো রপ্ত করেন নিজস্ব একটা ভাষা। তিনি তার বিষয় গুলো তুলে এনেছেন কাক, শেয়াল, বাজপাখি, এমন কি চাঁদকে উপলক্ষ করে যেখানে আছে মীথ ও মৌলিকত্ব।
বাজপাখি ডাকে
জঙ্গলের উঁচু গাছের মাথায় বসে আমি, চোখ বোজা।
চুপচাপ, কোন মিথ্যা স্বপ্ন নেই আমার বাঁকানো মাথা আর পায়ের মাঝখানেঃ
অথবা ঘুমের ভেতর নিখুঁত ভাবে হত্যা ও আহারের নেই কোন মহড়া।
উঁচু গাছে বসার অনেক সুবিধা!
বাতাসের উচ্ছ্বাস এবং সূর্যের রশ্মি
আমাকে আরাম দেয়;
পৃথিবীর মুখ উপরের দিকে আমার পরিদর্শনের জন্য।
রুক্ষ বাকলে আমার পা আটকে আছে।
সৃষ্টির পুরোটাই সে নিয়েছে
আমার পা তৈরি করতে, আমার প্রতিটি পালক:
এখন আমার পায়ে সৃষ্টিকে ধরে রাখি
উড়ে উপরে ওঠি এবং তার সবকিছু ঘূর্ণায়মান করি ধীরে ধীরে—
যেখানে খুশি খুন-খারাবি করি কারণ সবটাই তো আমার।
আমার শরীরে কোন আভিজাত্য নেই:
আমার শিষ্টাচার হলো ধড় ছিঁড়ে আলাদা করা—
মৃত্যু অবধারিত।
আমার চলার এই পথ সরাসরি
ঢোকে জীবিতদের হাড়-মাংসের ভেতর।
কোন যুক্তিতর্কের দরকার নেই আমার অধিকার নিশ্চিত করার:
সূর্য আমার পিছনে।
আমার শুরুর আগে যেমন ছিলো সবকিছু তেমনই আছে
আমার চোখ দেই নি পরিবর্তনের কোন অনুমতি।
যেমন চলছে রেখে যাচ্ছি অবিকল সবকিছু।
পূর্ণিমা ও ছোট্ট ফ্রীদা
একটা শীতল ছোট্ট সন্ধ্যা সংকুচিত হয়ে আসে
কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে
বালতির হাতলের ঝনঝন শব্দে
আর তুমি তা শুনছো।
মাকড়সার জালে শিশির কণা টানটান
একটা বালতি পূর্ণ কানায় কানায় একটা আয়না যেন প্রলুব্ধ করে আকাশের প্রথম তারাকে
সে কেঁপে কেঁপে যায়।
বাড়ি ফেরে গরুর পাল ক্ষেতের আলপথ বেয়ে
জড়ায়ে ধরে ঝোপঝাপ নিঃশ্বাসের পুষ্প উষ্ণতায়
রক্তের ঘন নদী, পারে রাখা পাথরের বোল্ডার
ধরে রাখে পানি ভারসাম্য করে যেন উছলে না পড়ে।
‘চাঁদ’— বলে তুমি ডুকরে কেঁদে উঠো
চাঁদ চাঁদ বলে ডেকে উঠো—
চাঁদ একটা শিল্পীর মতো দু’পা পিছু এসে বিস্মিত হয়ে দেখে তার কাজ,
আবেশিত হয়ে থাকে সে।
চিন্তায় শেয়াল
আমি এই রাতের মধ্য প্রহরে একটা জঙ্গল কল্পনা করি:
সেখানে জীবন্ত অন্য কিছু
ঘড়ির কাটার একাকীত্ব ছাড়া
আর এই শূন্য খাতার পাতা ছাড়া
যেখানে আমার আঙ্গুল কলম নিয়ে নিছক নড়াচড়া করে।
জানালা দিয়ে দেখতে পাই না কোনো তারা,
একটা কিছু খুব কাছে
যদিও অন্ধকারের খুব গভীরে
ঢুকে যাচ্ছে একাকীত্বে।
শীতল ও কোমল ঘন বরফের আস্তরণ
একটা শিয়াল পড়ে থাকা শুখনো লতা পাতা নাক দিয়ে শুখে
দু’চোখ আন্দোলিত করে এদিক ওদিক চেয়ে
বার বার দেখে শুনে
সতর্ক পায়ের ছাপ রাখে নরম তুষারে।
গাছের মাঝখানে সন্তর্পণে খুড়িয়ে চলা ছায়া
গুড়ির পাশে ফাঁপা একটা শরীর
থেকে বের হয়ে এসে
সামনে আগায় সাহসী হয়ে।
সামনে পরিষ্কার ধু ধু, একটা চোখ
অবারিত গভীরতম সবুজ আভা
প্রজ্জ্বোলতায় ও একাগ্রতায়
আসছে নিজস্ব কিছু কাজ নিয়ে।
ঠিক তখন হঠাৎ এক তীব্র তপ্ত ও দুর্গন্ধময় শেয়াল
মাথার ভেতর অন্ধ গহ্বরে ঢুকে পড়ে
জানলা দিয়ে যায় না দেখা কোন তারা, ঘড়ির কাটা নড়ে
খাতার পাতায় তখন হয়ে গেছে অনেক কিছু লেখা।


দারুন লাগলো দাদা
ReplyDelete